১০০০ টাকায় ব্যবসা | অল্প টাকায় ভালো ব্যবসা | দৈনিক আয়ের ব্যবসা
মাত্র ১০০০ টাকায় ব্যবসা শুরু করেও সফল হওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে আপনাকে লেগে থাকার মন-মানসিকতা রাখতে হবে এবং মার্কেটিংয়ের কমন বিষয়গুলির ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। যাইহোক!
আমাদের আজকের এই বাম্পার আর্টিকেলে একইসাথে পেয়ে যাবেন দৈনিক আয়ের ব্যবসা, সবচেয়ে লাভজনক ৫টি ব্যবসা আইডিয়া, অল্প টাকায় ভালো ব্যবসা, অল্প পুজিতে পাইকারি ব্যবসা এবং বিনা টাকায় ব্যবসা শুরু করার চমৎকার সব টিপস। সুতরাং সাথেই থাকুন।
দৈনিক আয়ের ব্যবসা
১০০০ টাকায় ব্যবসা হিসাবে আমরা শুরুতে বেশকিছু দৈনিক আয়ের ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করবো৷ এসব ব্যবসা আইডিয়া আপনাকে প্রতিদিন আয় করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসার আইডিয়ার ব্যাপারে একেবারে না বললেই নয়:
ব্লগিং
ব্লগিং হলো এমন একটি সিস্টেম বা ব্যবসা যেখান থেকে আপনি প্রতিদিন ইনকাম করতে পারবেন। এটিকে ব্যবসা বলার কারণ হলো ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে এর পেছনে আপনাকে অর্থ ব্যয় করতে হবে।
তবে আজকাল ব্লগারে সাইট রান করতে পারলে কোনোধরণের হোস্টিং খরচ দিতে হয় না। কেবল ডোমেইন কিনে তা প্রতি বছর বছর রিনিউ করতে পারলেই হয়। চলুন দৈনিক আয়ের ব্যবসা হিসাবে কিভাবে ব্লগিংয়ে সফল হবেন সে-সম্পর্কে জানি:
হাই সিপিসির কিওয়ার্ড বাছাই করুন
নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করুন
প্রতিদিন কমপক্ষে ২ টি টপিক রিলেটেড নিউজ দিন
ব্যাকলিংক করুন এবং সোশ্যাল শেয়ার করুন
সাইটের সকল ইমেইজ ইউনিকভাবে তৈরি করুন
লেগে থাকুন এবং সার্চ কনসোল ডিটেইলসে চোখ রাখুন
অনলাইন টিউশন
অনলাইন টিউশনের ক্ষেত্রে আপনি মান্থলি টাকা পেলেও আর্নিং কিন্তু প্রতিদিনই হবে। আর এটাকে ব্যবসা বলার কারণ হলো এখানে আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে। কারণ আজকাল অনলাইন থেকে টিউশন পেতে মিডিয়া ফি দেবার প্রয়োজন পড়তে পারে।
ডিজিটাল মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বড় সেক্টর। দৈনিক আয়ের ব্যবসা হিসাবে এখানে আপনি সেলিং, মার্কেটিং কিংবা রিসার্চসহ বিভিন্ন ধরণের কাজ পাবেন। তবে এই সেক্টরে প্রতিদিন পেমেন্ট পেতে হলে আপনাকে মার্কেটিংকে বেছে নিতে হবে।
মুদি দোকান
বাংলাদেশে মুদি দোকান বেশ ভালো চলে। আর এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে আপনিও চাইলে দৈনিক আয়ের ব্যবসা হিসাবে এই সেক্টর নিয়ে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া এখানে ইনভেস্টও কম লাগে।
এমন কোনো ব্যাক্তি নেই যে, যার নিয়মিত পান, সিগারেট, চা কিংবা কফির প্রয়োজন পড়ে না। মার্কেট ভালো চলে এমন স্থানে দোকান দিতে পারলে আরো ভালো!
সবচেয়ে লাভজনক ৫টি ব্যবসা
সততা, নিষ্ঠাবান, আন্তরিকতা এবং সীমিত লাভ এই ৪ জিনিস যদি আপনার মাঝে থাকে তবে আপনাকে ব্যবসার ক্ষেত্রে আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আপনাদের সুবিধার্থে চলুন সবচেয়ে লাভজনক ৫টি ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করি:
১. ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ব্যবসা
বর্তমানে সকলেই টেকনোলজির দিকে ঝুঁকছে। জীবনকে সহজ করতে নিয়মিত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক জিনিসপত্র ব্যবহার করছে। আপনিও চাইলে এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে ফেলতে পারবেন। ইলেক্টনিক পণ্যের ব্যবসায় আপনি শুরুতে যেসব প্রোডাক্ট রাখতে পারেন:
রাইস কুকার
প্রেসার কুকার
ফ্রাইপেন
মাইক্রোওভেন
হ্যান্ড বিটার
জুস মেশিন
কফি মেকার
হটপট
২. কাপড়ের ব্যবসা
ফ্যাশন-সচেতন মানুষের এই দেশে সবচেয়ে লাভজনক ৫টি ব্যবসার মাঝে কাপড়ের ব্যবসার কথা না বললেই নয়। তবে এক্ষেত্রে লাভ যত করার মন-মানসিকতা রাখবেন তা প্রাইজ যত কম ধরবেন ততবেশি প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন।
আর যদি অনলাইন মার্কেটিংয়ে ভালোমতো ফোকাস করতে পারেন তাহলে প্রচুর লাভ করতে পারবেন। কাপড়ের ব্যবসা করতে:
পাইকারি রেটে কাপড় কিনুন
ভালো স্থানে দোকান দিন
ট্রেন্ডি কাপড় দোকানে তুলুন
অনলাইনে মার্কেটিংয়ে মনোযোগ দিন
উৎসবের সময় ডিসকাউন্ট দিন
একই দোকানে ফ্যাশন রিলেটেড অন্যান্য প্রোডাক্টও রাখুন
৩. খাবারের হোটেল ব্যবসা
যেখানে স্কুল কলেজ বেশি কিংবা অফিস বেশি সেখানে খাবারের দোকান দিতে পারেন। কারণ বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ৫টি ব্যবসার মাঝে খাবারের হোটেলের ব্যবসাও অন্যতম। আপনি চাইলে ২ টি উপায়ে এই ব্যবসা করতে পারবেন। এগুলি হলো:
হোম মেইড খাবারের ব্যবসা
খাবারের হোটেলের ব্যবসা
হোম মেইড খাবারের ব্যবসা: আপনি মেয়ে হলে ঘরে বসে বিভিন্ন খাবার তৈরি করে মার্কেটিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে ভালো ফুড ডেলিভারিম্যানের সাহায্য নিতে হবে এবং ভালো প্যাকেজিং করে অনলাইন মার্কেটিংয়ের দিকটাও নিশ্চিত করতে হবে।
খাবারের হোটেলের ব্যবসা: অন্যদিকে পুরুষ হলে খাবারের হোটেলের ব্যবসা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন প্রধান বাবুর্চি এবং একজন সহকারী বাবুর্চি নিয়োগ দিতে পারেন। আর যদি নিজে কুকিং পারেন তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই!
৪. কোর্স বিক্রির ব্যবসা
আপনার কি কোনো একটি সেক্টরে ভালো দখল আছে? যদি থাকে সেটি সেল করেও ইনকাম করতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্কিল দেখেই লোক হায়ার করে।
আপনি যদি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোর্স সেল করেন তাহলে ভালোই আর্ন করার সুযোগ পাবেন। মূলত এই ধরণের কোর্স সেল করতে কোনো একটি রুম বা ভিডিওগ্রাফির প্রয়োজন পড়ে। এক্ষেত্রে কিছুটা ইনভেস্ট তো আপনাকে করতেই হবে।
অল্প টাকায় ভালো ব্যবসা
১০০০ টাকায় ব্যবসা হিসাবে যেসব ব্যবসা আইডিয়া শেয়ার করেছি আপনি চাইলে অল্প টাকায় ভালো ব্যবসা হিসাবে সেসব ব্যবসা শুরু করতে পারেন। পাশাপাশি যেসি ব্যবসায় ফোকাস করতে পারেন সেসব ব্যবসা হলো:
কফিশপ দিতে পারেন
ট্রাভেল এজেন্সি খুলতে পারেন
কোচিং সেন্টার দিতে পারেন
কুরিয়ার সার্ভিস দিতে পারেন
কম্পিউটারের দোকান দিতে পারেন
রিকশা কিনে ভাড়া দিন
সিএনজি কিনে ভাড়া দিন
জমি বর্গা দিন
মোবাইল রিচার্জের দোকান দিন
ইলেক্ট্রনিক জিনিস মেরামতে দোকান দিন
হকারদের সাথে ইনভেস্ট করুন
বিকাশের ব্যবসা করুন
ফুচকার দোকান দিন
গরমের দিনে আইসক্রিমের দোকান দিন
ফুলের ব্যবসা করুন
ইভেন ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে কাজ করুন
ফটোগ্রাফির বিজনেস করুন
সেলাই মেশিনের কাজ করুন
চাইল্ড কেয়ার সেন্টার দিন
গ্রুমিং শপ খুলুন
অল্প পুজিতে পাইকারি ব্যবসা
সাধারণ ব্যবসা এবং পাইকারি ব্যবসা কখনোই কিন্তু একই না। যাইহোক! পাইকারি ব্যবসায় কিন্তু বর্তমানে অনেক লাভ করা সম্ভব। কারণ অনেকেই কম দামে প্রোডাক্ট কিনে তা সেল করতে চায়। চলুন অল্প পুজিতে পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া নেওয়া যাক।
মুদি দোকানের প্রোডাক্ট: চাইলে মুদি দোকানের বিভিন্ন শুকনো মালামাল নিয়ে পাইকারি ব্যবসা করতে পারেন। ১ লক্ষ টাকা মুলধন নিয়ে নামলে এই ব্যবসায় মোটামুটি লাভের মুখ দেখবেন।
প্যাকেট: কাগজের প্যাকেটের পাইকারি ব্যবসা করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ফল বিক্রেতা এবং স্ন্যাকস আইটেম সেল করে এমন সেলারদের সাথে ভালো সম্পর্কে রাখতে হবে।
কসমেটিক্স: কানের দুল, চুড়ি, হিজাব আইটেমসহ বিভিন্ন কসমেটিকস আইটেম সরাসরি কারখানা থেকে আনিয়ে তা খুচরা দামে সেল করতে পারেন। অথবা চাইলে তা পাইকারি দামে ছেড়ে দিয়েও নতুন প্রোডাক্ট তুলতে পারেন।
খেলনা: বাচ্চাদের খেলনা নিয়ে পাইকারি ব্যবসা করতে হলে আপনাকে মিনিমাম ৫০,০০০/- হাতে নিয়ে ব্যবসায় নামতে হবে।
বিনা টাকায় ব্যবসা
১০০০ টাকায় ব্যবসা না করে শুরুতে যারা বিনা টাকায় ব্যবসা শুরু করে কিছুটা সেভিং করতে চান তাদের জন্যে আর্টিকেলের এই অংশটি। চলুন এই পর্যায়ে বেশকিছু বিনা টাকায় ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করি:
আপনি চাইলে ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে পরবর্তীতে এডসেন্স থেকে আর্ন করতে পারেন
ব্লগিং শুরু করে কন্টেন্ট আপলোড করে এড থেকে আয় করতে পারেন
টিউশনি সার্ভিস দিতে পারেন এবং এক্ষেত্রে বিভিন্ন টিউশন মিডিয়ার সাহায্য নিতে পারেন
ফ্রিল্যান্সিংয়ের যেকোনো স্কিল ইউটিউব শিখে তার উপর সার্ভিস দিতে পারেন
আপনার যদি ভালো পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে অনলাইন কনসালটেন্ট হিসাবে কাজ করুন
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজিং কোর্স করে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতে পারেন
মার্কেটিং ভালো জানলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কমিশন আয় করতে পারেন
Post a Comment